০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য প্রয়োজন কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৬ Time View

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আইনি ও মনঃসামাজিক সহায়তা, জরুরি সাড়া এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবা দেশে রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কাজ করে এবং বিশেষায়িত সেবায় প্রবেশাধিকার সারা দেশে সমান নয়। সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা হুমকি ও সুরক্ষাজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি হলে তাঁরা যাতে সময়মতো ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পেতে পারেন, সে জন্য একটি সমন্বিত ও কার্যকর রেফারেল (সুসংগঠিত প্রক্রিয়া বা নেটওয়ার্ক) ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেছেন। ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য রেফারেল ব্যবস্থা’ শিরোনামে এই সেমিনারের আয়োজন করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

সেমিনারে ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সহায়তা সেবার ম্যাপিং এবং একটি রেফারেল ব্যবস্থা প্রস্তাব’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি একটি প্রস্তাবিত রেফারেল ব্যবস্থা ও কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। ‘স্বাধীনতা: ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি (ফ্রিডম)’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই গবেষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, বাস্তবায়ন করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আইনি ও মনঃসামাজিক সহায়তা, জরুরি সাড়া ও ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবা দেশে রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কাজ করে এবং বিশেষায়িত সেবায় প্রবেশাধিকার সারা দেশে সমান নয়। জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় এ ঘাটতি বেশি।

অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা ও দ্রুত সাড়াও প্রয়োজন

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আমাদের পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে, তাতে তরুণদের এসব পরিবর্তনের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করতে সক্ষম করে তুলতে হবে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন এবং পলিটিক্যাল, ইকোনমিক, ট্রেড, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান বাইবা জারিনা বলেন, হুমকির মুখে পড়লে কোনো সাংবাদিক বা মানবাধিকারকর্মীর যেন সহায়তা পাওয়ার জায়গা নিয়ে দ্বিধায় থাকতে না হয়। তাঁরা যেন স্পষ্টভাবে জানতে পারেন কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে এবং কী ধরনের সহায়তা পাওয়া সম্ভব।

আইন ও নীতিমালা থাকার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। তিনি বলেন, অপতথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি বাড়ছে। তাই নাগরিকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়ালেও অপতথ্য, ঘৃণা, অনলাইন হয়রানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর অধিকার ও সুরক্ষা এবং গণমাধ্যম সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, শুধু প্ল্যাটফর্ম, নীতিমালা বা কর্মপরিকল্পনা থাকলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। অভিযোগের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থা ও দ্রুত সাড়াও নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় নিউজ

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য প্রয়োজন কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আইনি ও মনঃসামাজিক সহায়তা, জরুরি সাড়া এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবা দেশে রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কাজ করে এবং বিশেষায়িত সেবায় প্রবেশাধিকার সারা দেশে সমান নয়। সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা হুমকি ও সুরক্ষাজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি হলে তাঁরা যাতে সময়মতো ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পেতে পারেন, সে জন্য একটি সমন্বিত ও কার্যকর রেফারেল (সুসংগঠিত প্রক্রিয়া বা নেটওয়ার্ক) ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেছেন। ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য রেফারেল ব্যবস্থা’ শিরোনামে এই সেমিনারের আয়োজন করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

সেমিনারে ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সহায়তা সেবার ম্যাপিং এবং একটি রেফারেল ব্যবস্থা প্রস্তাব’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি একটি প্রস্তাবিত রেফারেল ব্যবস্থা ও কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। ‘স্বাধীনতা: ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি (ফ্রিডম)’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই গবেষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, বাস্তবায়ন করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আইনি ও মনঃসামাজিক সহায়তা, জরুরি সাড়া ও ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবা দেশে রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কাজ করে এবং বিশেষায়িত সেবায় প্রবেশাধিকার সারা দেশে সমান নয়। জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় এ ঘাটতি বেশি।

অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা ও দ্রুত সাড়াও প্রয়োজন

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আমাদের পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে, তাতে তরুণদের এসব পরিবর্তনের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করতে সক্ষম করে তুলতে হবে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন এবং পলিটিক্যাল, ইকোনমিক, ট্রেড, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান বাইবা জারিনা বলেন, হুমকির মুখে পড়লে কোনো সাংবাদিক বা মানবাধিকারকর্মীর যেন সহায়তা পাওয়ার জায়গা নিয়ে দ্বিধায় থাকতে না হয়। তাঁরা যেন স্পষ্টভাবে জানতে পারেন কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে এবং কী ধরনের সহায়তা পাওয়া সম্ভব।

আইন ও নীতিমালা থাকার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। তিনি বলেন, অপতথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি বাড়ছে। তাই নাগরিকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়ালেও অপতথ্য, ঘৃণা, অনলাইন হয়রানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর অধিকার ও সুরক্ষা এবং গণমাধ্যম সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, শুধু প্ল্যাটফর্ম, নীতিমালা বা কর্মপরিকল্পনা থাকলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। অভিযোগের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থা ও দ্রুত সাড়াও নিশ্চিত করতে হবে।